যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে যে সকল বাংলাদেশি নিরন্তর সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বহির্বিশ্বে সমুজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছেন আলোকিত উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী (বিলাল) তাদের অন্যতম। সিলেটের কৃতী সন্তান বিলাল চৌধুরী আমেরিকার মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৯ সাল থেকে Farstar Importer Dist. Inc. New York এর সিইও অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট এবং Farstar Import & Distribution Inc. এর প্রেসিডেন্ট। এ প্রতিষ্ঠান দুটো আমেরিকার মূলধারার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত। এই দুটি ফুলটাইম খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
সময়ের প্রাণবন্ত স্মার্ট এই উদ্যোক্তা শুধু নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের কথাই ভাবেন না- তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি অন্য ব্যবসায়ীদের ভালোমন্দ, সমস্যা এবং সম্ভাবনার দিকেও দৃষ্টি প্রসারিত করেছেন। আর এই উদ্দেশ্যেই গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফরম American Bangladesh Business Alliance (ABBA)। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।

ছোটবেলা থেকেই ছাত্র হিসেবে মেধার স্বাক্ষার রেখেছেন বিলাল চৌধুরী। তিনি ১৯৯২ সালে ইসমতি হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং সিলেটের এমসি ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে (১৯৯৪-৯৬) বর্ষে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। পরবর্তীকালে তিনি কম্পিউটারাইজড অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।
আমেরিকায় এসে তিনি পড়াশোনা ও কাজের পাশাপাশি মূল্যায়ন করেন এদেশে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে হলে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা ও সঞ্চয়কে পুঁজি করে সাহস নিয়ে ২০০৯ সালে শুরু করলেন ফুড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এ জন্যে তাকে সাহসী হতে হয়েছে- কারণ, চাকরিতে কোনো আর্থিক রিস্ক নেই, কাজের বিনিময়ে বেতন জোটে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে বরং অন্যদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হয়।
আত্মপ্রত্যয়ী বিলাল চৌধুরী ভাবলেন, পরিশ্রম মানুষের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। পরিবর্তন করতে পারে ভাগ্যের। এছাড়া একজন উদ্যোক্তা- ব্যবসায়ী তার উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে সক্ষম হয়। মূলত চিন্তা যদি সৎ হয় এবং উদ্যম ও একাগ্রতা যদি নিরলস হয় তবে সাফল্য আসবেই। একজন উদ্যমী ও সৎ চিন্তার মানুষ বিলাল চৌধুরীর জীবনেও তাই ঘটেছে। তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি যখন যে উদ্যোগই নিয়েছেন- তাতেই সাফল্যের মুুখ দেখতে সক্ষম হয়েছেন।
নিউ ইয়র্কের ক্যুইন্সে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিলাল চৌধুরী বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। তিনি প্রতিষ্ঠানিক সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বিলাল চৌধুরী রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সাথেও সম্পৃক্ত। এটি তিনি করেন বিশেষত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে।

বিলাল চৌধুরী খেলাধুলার প্রতি বরাবরই আগ্রহী। ধর্মের প্রতিও বিশেষ অনুরাগী। পবিত্র কোরআনের বাণীকে নিজের জীবনধারার সাথে মিশিয়ে নেবার চেষ্টা করেন তিনি। বাংলাদেশে খ্যাতনামা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমান্তিকের তিনি একজন সুহৃদ শুভাকাক্সক্ষী।
বিলাল চৌধুরী ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পারিবারিক কর্মব্যস্ততার মধ্যে মানুষের কল্যাণধর্মী সমাজসেবামূলক কাজে সময় দেয়াকে ইবাদত মনে করেন। তার মতে, মানুষ আল্লাহর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ জীব। একজন মানুষের উপকার করার অর্থ আল্লাহর সৃষ্টিকর্মকে সেবা করা- এতে সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট হন।
এই করোনাকালেও তিনি সেবাপ্রদান অব্যাহত রেখেছেন। প্রস্তুতি রেখেছেন খাবার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশ্নে বিলাল চৌধুরীর ভাবনা হচ্ছে, আমাদের সম্পদ প্রাকৃতিক ও জনশক্তি রয়েছে- এই সম্পদ ও জনশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্যে সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়া জরুরি। তিনি গর্বিত, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে সক্ষম হয়েছে এবং উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। একই সাথে তিনি মনে করেন, দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, জাতীয় উন্নয়নে সরকার ও বিরোধীদলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন। দল যার যার- দেশ সবার- তিনি এই নীতিকথায় বিশ্বাসী।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


