অর্থনীতি

লাইফ ইন্স্যুরেন্স মানুষের জীবন-জীবিকার এক নির্ভরতার মাধ্যম

মিজান রহমান কর্মকর্তা, ব্লু ওশেন ওয়েলথ সল্যুশন্স-ম্যাস মিউচুয়াল ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ

স্বপ্ন অনেকেই দেখেন, কিন্তু সবার স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে না। যাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় তারা ভাগ্যবান। সেই ভাগ্যবানদেরই  অন্যতম একজন মিজান রহমান। মেধাবী ছাত্র মিজান রহমান ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন উন্নত দেশ আমেরিকায় যাবার। ভাবতেন, এদেশের অনেকেই তো আমেরিকা গিয়েছেন, থাকছেন- সেখানে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। তবে আমার হবে না কেন?

স্বপ্নদর্শী তরুণ মিজান রহমান ছাত্র হিসেবে ছিলেন প্রখর মেধাবী। বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমান ১৯৯৩ সালে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন পৃথিবীর যে কোনো দেশেই শিক্ষার মর্যাদা অন্যরকম। তিনি আমেরিকা এসেই পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ (MBA) সম্পন্ন করেন। মিজান রহমান পড়াশোনা শেষে দেশের বৃহত্তম এনজিও CARE-এ সাপোর্ট ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের অভিজ্ঞতা ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন এই দুটো থাকায় তিনি বিভিন্ন অফিসিয়াল জব-এর অফার পান। এর মধ্যে একটি অফার পান মেটলাইফ থেকে। মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত কোম্পানি।

বুদ্ধিদীপ্ত মিজান রহমান এক সময় ভাবলেন, যারা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, প্রফেশনাল ব্যক্তিত্ব তাদের ইন্স্যুরেন্সের অফার দিলে অ্যাকসেপ্ট করতে পারেন। কিন্তু তিনি শুরুতে ৪ জন প্রফেশনালের কাছে যান, সেভাবে সাড়া মেলে না। তার মনে হতে থাকে এ পথ দুর্গম- কঠিন হবে এ পেশায় টিকে থাকা!

এরই মধ্যে সুযোগ পেলেন নিজের কর্মপ্রয়াস ও পেশার গুরুত্বকে তুলে ধরার। সেটি ছিল ১৯৯৭ সাল। বাংলাদেশ কমিউনিটিতে অনুষ্ঠিত হেলথ কেয়ারে স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করলেন। এই হেলথ কেয়ার তার ইন্স্যুরেন্স পেশা জীবনের মাইলফলক হয়ে এলো। এখানে বাংলাদেশি আমেরিকান ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, ফার্মাসিস্টসহ কমিউনিটির অনেক সংগঠন যোগদান করলো। তাদের সাথে পরিচয় ঘটলো উদ্যমী তরুণ, স্মার্ট, সুদর্শন মেধাবী মিজান রহমানের। তার কথাবার্তা, আচরণ এবং মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে অবগত হয়ে এই ফেয়ারে অনেকেই মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহণ করলেন। অনেকের সাথে গভীর হৃদ্যতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলো। এভাবেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে পেশায় সাফল্য তাকে অনেকপথ পাড়ি দেওয়ার সাহস যোগালো। মেটলাইফের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এক্সিকিউটিভ মিজান রহমানের ক্লায়েন্ট তালিকা পুষ্ট হতে থাকলো। 

এরপর সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারের দিকে এগিয়ে যাওয়া। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চপদের অফার নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এখন ম্যাস মিউচুয়াল ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের ব্লু-ওশেন ওয়েলথ সল্যুশন্সের কর্মকর্তা। ন্যাসাউ কাউন্টির অভিজাত এলাকা ম্যানহ্যাসেটের ইস্ট শিলসে তার চমৎকার অফিস। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি তার সংযোগ বাড়িয়েছেন কয়েকশ’ গুণ। সম্পর্কের সূত্রকে করে নিয়েছেন গভীর থেকে গভীরতর। ৪৫টি স্টেটে যেহেতু তার লাইসেন্স রয়েছে- এসব স্টেটে তার ক্লায়েন্ট ১০০০ এরও উপরে। তারা সবাই প্রফেশনাল পারসন। বাংলাদেশির বাইরেও তার ক্লায়েন্ট আছে- বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অন্যান্য কমিউনিটির লোকজনও তার ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টদের মধ্যে সবাই প্রায় নতুন, কারো সাথে পরিচয় ঘটলে তার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে যায়। তার হাসি মুখ ক্লায়েন্ট সংগ্রহের অন্যতম অনুষঙ্গ। একজন পেশাজীবী হিসেবে তিনি কর্মসাফল্যের স্বীকৃতিতে অনেক পদক ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার মাথায় জোটে অনেক সাফল্য মুকুট। মিলিয়ন ডলার রাউন্ড টেবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননাও পেয়েছেন। লাভ করেছেন ন্যাশনাল সেলস এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড, লিডার্স কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড, মেটলাইফ পেস সেন্টার অ্যাওয়ার্ড। প্রায় দশ বছর টপ প্রোডিউসার হয়েছেন। তার সাফল্যের মুকুটে যোগ হয়েছে কুয়াড্রুপল ক্রাউন অ্যাওয়ার্ড, ট্রিপল ক্রাউন অ্যাওয়ার্ড। ন্যাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভের মেডেল এবং সাইটেশন ছাড়াও তিনি বেশ কিছু সম্মাননা লাভ করেছেন যা প্রেস্টিজিয়াস। এই যে সফল পেশাজীবন, এতো স্বীকৃতি তারপরও মিজান রহমান সবসময় শেকড়-ঘনিষ্ঠ মাতৃভূমি বাংলাদেশের কথা মনে করেন। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে বাংলাদেশি কালচার সম্পর্কে জানতে পারে এবং তা অনুশীলন করে সে জন্যে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ও বিজয় দিবসসহ বৈশাখী উৎসব উদযাপনের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের কৃষ্টি ও কালচার সমৃদ্ধ। এদেশের মানুষ কখনো পরাধীনতা মেনে নেয়নি- এ বাংলার ইতিহাস লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে থাকা ও বিজয়ীর ইতিহাস।

উদ্যমী ও জীবনঘনিষ্ঠ পেশাজীবী মিজান রহমান বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্স মানুষের জীবন-জীবিকার এক নির্ভরতার মাধ্যম; এটি করা থাকলে মানুষের মধ্যে সাহসের সঞ্চার হয়। তার আশা, পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ অন্য অনেক কিছুর মতো লাইফ ইন্স্যুরেন্স করার ব্যাপারেও সচেতন হবে।

অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button