বাংলাদেশের সোনার মেয়ে আনিকা রহমান এখন শুধু বাংলাদেশি আমেরিকান নন, তিনি বর্তমান আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির এক সম্ভাবনাময় নেত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদচারণা ১০ বছরেরও বেশি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্থানীয় YMCA এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনিকা সমাজসেবামূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। আনিকা ভার্জিনিয়ার বাংলাদেশ কমিউনিটিতে অসমতা নিরসন অর্থাৎ বৈষম্য সমস্যা সমাধান, শিক্ষার সম্প্রসারণ, সচেতনতা সৃষ্টিসহ কিশোরী-যুবতীদের উন্নয়নে কাজ করেন। বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের শোষণ ও অবহেলা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন।
আনিকা রহমান একজন অগ্রসরমান নারী, যিনি স্থানীয় স্টেট (রাজ্য) এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তার পেশাগত Advocacy’র কারণে শুধু মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেই নয়, Hispanic, আফ্রিকান-আমেরিকান এবং এশিয়ান কমিউনিটি সবার সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি তাদের সমস্যা এবং প্রয়োজনীয়তা বুঝতে এবং তা সমাধানে উদ্যোগ নিতে পারেন। আনিকার বড় গুণ হচ্ছে- তিনি ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, হিন্দি এবং উর্দু ভাষা জানেন- সঙ্গে নিজের মাতৃভাষাতো আছেই।

আত্মপ্রত্যয়ী, মেধাবী এবং স্মার্ট আনিকা রহমান George Mason University থেকে আন্তর্জাতিক বিকাশে একাগ্রতার সাথে গেøাবাল অ্যাফেয়ার্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। অধ্যয়ন শেষে তার প্রথম কাজ মুসলিম আমেরিকান সিটিজেন কোয়ালিশন এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, যা তাকে নির্ধারিত ব্যক্তি, অংশীদার, কংগ্রেসনাল স্টাফ, সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং সংস্থার সাথে বৈঠকের সুযোগ দেয়- যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রভাবিত নীতিগত অগ্রাধিকার এবং মূল বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে পারেন।
আনিকা রহমান রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি নাগরিক ব্যস্ততার গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন এবং এ ব্যাপারে তার স্টাডি ছিল। তাই তিনি ভার্জিনিয়া ডেমোক্র্যাটস এবং আরও অনেক কিছুতে ১৫টি হাউজ অব ডেলিগেটস আসনে ফ্লিফ করতে সহায়তা করে, কাসা ইন অ্যাশনের একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জনসভা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে জড়িত হওয়া ছাড়াও কংগ্রেস ও সিনেটে বিল পাস করার জন্যে তদবির করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত বার্মা টাস্ক ফোর্সের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে তিনি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন এবং এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্রেটদের সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করার জন্যে রাজ্যটির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা ডিক সাসলাওয়ের হয়ে কাজ করেছেন। এরপর তিনি রাজ্য সিনেটর জ্যানেট হাওলের প্রচার প্রচারণার ডিরেক্টর এবং তার পুন:নির্বাচন প্রচারে তার সারোগেট হিসেবে দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করেন। প্রচারের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি স্থানীয় নির্বাচনসমূহ এবং কমিটির সাথে কাজ করার সুযোগ পান।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেটিক এশিয়ান-আমেরিকান (ডিএএভি) তাকে সম্প্রতি ‘আনসং হিরো’ সম্মানে ভ‚ষিত করেছে। সময়ের গতিশীল নেত্রী আনিকা রহমান ডিএএভি’র পরিচালনা পর্ষদের দ্বিতীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই অবস্থানে বাংলাদেশ কমিউনিটি গর্বিত।

আলোকিত নেত্রী আনিকা রহমান ইউভিএ’র সোরেনসন স্নাতক (২০২০)। বর্তমানে তিনি প্রতিনিধি কায়ে কোরির আইনসভার পরিচালক। বিভিন্ন কাজের ও দায়িত্বের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় তিনি রাজ্যের শীর্ষ নীতি সম্পর্কে যেমন ওয়াকিবহাল তেমনি দৃষ্টিভঙ্গিকেও অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। আনিকা রহমান যে সকল পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাচ্ছেন তা অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। তিনি দুর্যোগ, মহামারি কিংবা অন্য কোনো ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে তা সমাধান কিংবা সহায়তা করার মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
তবে দেশে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তেমন কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় তিনি বেশ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই অবস্থান সম্পর্কে ভার্জিনিয়ার জন্যে আইন এবং নীতিতে সরাসরি কাজ করার জন্যে ব্যবহার করতে আগ্রহী। আনিকা রহমান ইতোমধ্যে স্থানীয় অফিসে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আনিকা রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ কমিউনিটিসহ সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ বাড়ছে।
আনিকা রহমান সহানুভ‚তি এবং গণতান্ত্রিকভাবে পরিবর্তনে বিশ্বাসী। একজন বুদ্ধিদীপ্ত আত্মপ্রত্যয়ী নেতা হিসেবে আনিকা রহমান বিশ্বাস করেন, মুসলিম কমিউনিটিকে স্থানীয়ভাবে এবং বিশ্বব্যাপী সহায়তা করার ক্ষেত্রে তার ভ‚মিকা রাখা প্রয়োজন। এ জন্যে তিনি বেশ মনোযোগ সহকারে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কমিউনিটির উন্নয়নে তাদেরকে যথাযথ প্ল্যাটফর্ম এবং সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
তারুণ্যে উদ্ভাসিত আনিকা রহমান নিজ মেধা, অভিজ্ঞতা এবং কর্মতৎপরতার মাধ্যমে একজন গুণী রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জনে সক্ষম হবেন একথা নিশ্চিত বলা যায়।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


