বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এটিএম আব্দুল ওহাব বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের এ মাসে সবাইকে জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবর্ষের। ক’দিন আগেও নারীকে সমাজের বোঝা মনে করা হতো। তাদেরকে দেখা হতো সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষ হিসেবে। কিন্তু আজ যে আর তারা পিছনে নেই তা প্রমাণ করে এখানে কয়েক হাজার নারীর উপস্থিতি। যারা তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানে নিজেদের এতটাই দক্ষ করেছেন যে- তারা এখন রোজগার করছেন, হয়ে উঠেছেন বিশ্ব পর্যায়ের এক একটা মানবশক্তি। আমি কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন রেডক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অনেক নারী রয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবায় নিযুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন জ্ঞান আমাদের স্বেচ্ছা সেবীর জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এ যখন সকল কিছু হয়ে উঠেছে প্রযুক্তিনির্ভর স্বেচ্ছাসেবাও তার বাইরে ছিল না। তাই আমরা উপলব্ধি করতে পারছি তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান যত অর্জন করা যায় স্বেচ্ছাসেবীর জন্য পথ চলা আরও সহজ হয়ে ওঠে। এটা সত্য যে, সেবা মানে কাছে যাওয়া, পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু মহামারির বাস্তবতায় আমাদের অনেক কাজকে সহজ করে দিয়েছে প্রযুক্তি। সুতরাং, প্রযুক্তির জ্ঞান স্বেচ্ছাসেবাকে ত্বরান্বিত করে।
এটিএম আব্দুল ওহাব বলেন, আজ এখানে যে তথ্যপ্রযুক্তিতে বলীয়ান নারীরা রয়েছেন তাদের কাছে আমার আবেদন- তারা যেন যে কোনো উপায়ে স্বেচ্ছাসেবাতে যোগদান করেন। আর কোডার্সট্রাস্টের কাছেও আবেদন থাকবে তারা যেন স্বেচ্ছাসেবীদেরও তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নীত করার পথে উদ্যোগী হন। নারীদের এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে কোডার্সট্রাস্ট যে উইমেন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফর ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেস নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রান্ত হতে ১০০০ নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এই উদ্যোগে আমি মুগ্ধ। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে আইসিটি সেক্টর গার্মেন্টস এবং ম্যানপাওয়ার সেক্টরেও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবে। কোডার্সট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান, আইসিটি উদ্যোক্তা, বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদকে তার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেশকে পে-ব্যাক করার মহান চিন্তা নিয়ে দেশের জন্য তিনি যা করছেন তা দেশমাতৃকার যোগ্য সন্তানেরই কাজ। এমন সব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলার সুবর্ণজয়ন্তী আরও স্বর্ণময় হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা।


