অর্থনীতিপ্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রতিবেদনবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কোডার্সট্রাস্ট দেশের নারীদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আতাউল গণি ওসমানি

আতাউল গণি ওসমানি, কান্ট্রি ডিরেক্টর, কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ

কোডার্সট্রাস্ট আয়োজিত হাজারো নারীর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশের সম্মানিত কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব আতাউল গণি ওসমানি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষকে, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি  করাই কোডার্সট্রাস্টের মূল লক্ষ্য। কোডার্সট্রাস্ট ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশে যাত্রা শুরু এবং প্রজেক্ট সম্পন্ন করে- সে প্রজেক্টে ছিল ইউএনডিপি। এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা প্রজেক্ট ছিল। আপনারা জানেন, রাজধানীতে কড়াইল নামে এক স্ল্যাম রয়েছে যেখানে তখন প্রায় ৫০ হাজারের বেশি আমার মনে হয় এখন দু’লক্ষ মানুষ বসবাস করে। স্ল্যামের যারা শিক্ষার্থী ছিল বিশেষ করে এসএসসি পাস এবং তার নিচে তাদেরকে আমরা আইসিটি ট্রেনিং এবং ইংলিশ কমিউনিকেশন ট্রেনিং দেয়ার জন্য সিলেক্ট করি। এটা একটা পাইলট প্রজেক্ট ছিল। মাত্র ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল যেখানে ২০ জন ছেলে এবং ২০ জন মেয়ে অংশগ্রহণ করে। আমার মনে আছে, ওই সময়টায় যখন আমরা ট্রেইনি সিলেকশন করি তখন তাদের যে অবস্থান ছিল তাদেরকে একটা ল্যাপটপ দিয়েছিলাম, আমরা বলেছিলাম এটা অন করতে পারো কিনা একটু দেখাও। প্রথমে দুই-তিনজন সেটা অন করতে পেরেছিল বাকিদের ল্যাপটপের সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না। এই অবস্থান থেকে আমরা ছয় মাসে একটা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেই এবং প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা  প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এই ৬ মাস মূলত কম্পিউটারের বেসিক এবং ইংলিশ কমিউনিকেশন স্কিল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম একজন মেয়ে পাঁচ ডলারের একটি কাজ পায়। ওই মেয়ে যখন কাজটি পেল তখন সবার মধ্যে একটি উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করলো; তারা বেশ কয়েকজন কম্পিউটার ম্যানেজ করে এবং আমাদের মেন্টররা ছিল তারা রাত জেগে তাদেরকে সাহায্য করতো। আতাউল গণি ওসমানি বলেন, আপনারা জানেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে যারা কাজ করে তাদের ক্লায়েন্ট ইউরোপ-আমেরিকার, মেন্টররা তাদের রাত জেগে সহযোগিতা প্রদান করে এবং এখান থেকেই আমাদের প্রথম একটি বড় ধরনের একটি আত্মবিশ্বাসের জন্ম হলো। যদি আমরা এই কড়াইল বস্তির ছেলে-মেয়েদেরকে যাদের কম্পিউটারের কোনো অভিজ্ঞতা নেই তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্লোবালমার্কেটে যেটা খুবই কম্পিটিটিভ যেখানে বায়ারদের সাথে ইংরেজিতে কনভারসেশন করতে হয় একটা কাজ পাওয়ার জন্য, সেই জায়গাটাতে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে বাংলাদেশে এখন ৬৫% যে তরুণ জনগোষ্ঠী আছে এবং যাদের অধিকাংশই শিক্ষিত তাদেরকে দিয়ে কাজ করালে কি ধরনের সফলতা আনতে পারব সেটা ভেবেই আমরা এগিয়ে যাই। তারপর থেকে আমরা কখনো পিছনে তাকাইনি। তারপর থেকে বিভিন্ন প্রজেক্টে আমাদের তখন প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ছিল। ২০২০ সালের মার্চ মাসে যখন কোভিড সংক্রমণ শুরু হলো আমরা মার্চের ২৫ তারিখের মধ্যে সমস্ত শিক্ষার্থীকে সফলতার সাথে আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনবোর্ড করি এবং কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ২৫০০ শিক্ষার্থীকে ট্রেনিং সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে অনলাইন এবং অফলাইন দু’রকমই আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি।

জনাব আতাউল গণি ওসমানি বলেন, কোডার্সট্রাস্ট-এর শুরু থেকেই মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘ওমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’ এটা আমাদের ওয়ান অব দ্য কোর ভ্যালু। তিনি আরও বলেন, কোডার্সট্রাস্ট দেশের নারীদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মাঝে টোটাল জনসংখ্যার অর্ধেকই মেয়ে এবং তারা শিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে বিশেষ করে আইসিটির দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। এই জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেই তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এবং এতে অর্জন করেছেন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য। আতাউল গণি ওসমানি বলেন, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি ধৈর্যশীল তাই সফলতাও তাদের দ্বারা বেশি আনা সম্ভব। তাদের প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৭২৫ জনই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ আদায় করে নিতে পেরেছেন। তিনি মনে করেন এটি কোডার্সট্রাস্টের ওয়ান অব দ্য বেস্ট এচিভমেন্ট এবং সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তারা এই উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button