জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য আগামীর বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে তৃতীয় ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীরও তৃতীয় বাজেট। করোনা মহামারিকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টায় এই বাজেটে আটটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণে অর্থায়ন ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা আওতার সম্প্রসারণ করা। এছাড়া প্রণোদনা প্যাকেজ সফলভাবে বাস্তবায়ন, অধিক খাদ্য উৎপাদনে কৃষির গুরুত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পেশকৃত বাজেট বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ বাজেট। এ বাজেটে নতুন করে কর আরোপ না করায় চাল, ডাল চিনি-লবণ, দেশে উৎপাদিত পেস্ট, পাউরুটি, সাবান, বোতলজাত পানি, ফলের জুস, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-দ্রব্যের দাম বাড়বে না। আমদানি করা সম্পূর্ণ মোটরসাইকেলের চেয়ে দেশে সংযোজিত মোটরসাইকেল কম দামে পাওয়া যাবে।
বাজেটে অতীতের বাজেটের মতো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও তার অবাধ সুযোগ থাকছে না। আগের ঘোষণা অনুযায়ী হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং জমি ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই সুযোগ থাকছে। চলতি অর্থবছরে হাইটেক পার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের উপর প্রতি বর্গমিটারের উপর নির্দিষ্ট হারে এবং গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয় পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের উপর ১০% হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। নতুন করে কালো টাকা সাদা করার ঘোষণা না থাকায় ‘সতর্ক সাধুবাদ’ জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’।
বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। চলতি বাজেটে (২০২০-২০২১) এটি ছিল ৮.২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশের মধ্যে ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদগণের অনেকেই বলছেন- বাজেটে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এবারের বাজেটে করপোরেট রেট কমানো হয়েছে। ব্যক্তিগত আয় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর মুক্ত রাখা হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এডিপি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।
বর্তমান বিশ্ব করোনা মহামারির কবলে এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত। ইতোমধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কৃত হলেও তা এখনো খুবই অপ্রতুল। ফলে, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো টিকার সুযোগ পাচ্ছে না যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে করোনা আবার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রতিরোধে যে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় সর্তকতা জারি করেছে তা এখনও বাংলাদেশে ঢিলেঢালাভাবে পরিপালিত। সরকারের উচিত এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাহলে দেশের মানুষ করোনামুক্ত জীবন জীবিকা পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এনামুল হক এনাম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক



