অর্থনীতিপ্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রতিবেদনবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কোডার্সট্রাস্ট, আজিজ আহমদ

আজিজ আহমদ, চেয়ারম্যান, কোডার্সট্রাস্ট

কোডার্সট্রাস্ট এদেশের আর্থসামাজিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইসিটি খাতের একটি কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর উদ্যোক্তা ও কো-ফাউন্ডার আজিজ আহমদ একজন উন্নয়ন চিন্তার অগ্রণী মানুষ যিনি অর্থনৈতিকভাবে       বাংলাদেশকে অনন্য এক উঁচুতে নিয়ে যাবার মানসে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আজিজ আহমদ একই সাথে UTC Associates-এর সিইও এবং US Bangladesh Global Chamber of Commerce -এর চেয়ারম্যান। একজন বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ নিউ জার্সিতে বসবাস করলেও তাঁর চিন্তা-চেতনার প্রতিটি ইন্দ্রিয় জুড়েই প্রাধান্য পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের এই কৃতী সন্তান উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন যে, পৃথিবীতে সম্মানজনক এবং উন্নত জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা  হতে হবে আন্তর্জাতিক আদলে গ্রহণযোগ্য শিক্ষা। পাশাপাশি এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম হবে। এ কারণেই তিনি কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। গড়ে তুলেছেন UTC Associates এর মতো আইটি-বেজড প্রতিষ্ঠান।  আমেরিকার নিউ জার্সিতে বসবাসকারী আজিজ আহমদ একজন প্রকৌশলী, শিক্ষক ও গবেষক। তিনি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নেই নিবেদিতপ্রাণ নন, পরিবেশ রক্ষায়ও একজন সোচ্চার ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক। সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি চট্টগ্রামের প্রকৃতিকে কলুষমুক্ত রাখার ব্যাপারেও তিনি পালন করে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন কিন্তু তা কোনোভাবেই পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। তাঁর মতে, এটা মেনে নেয়া হবে না যে, সিআরবির সবুজ আকাশটা কংক্রিটের শক্ত আবরণে ঢাকা পড়ুক।

আত্মপ্রত্যয়ী আজিজ আহমদ-এর মানসজাত প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের অধিক বাংলাদেশিকে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। তাদের কর্মজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কোডার্সট্রাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ফ্রি ল্যান্সিং করছেন। এই ফ্রি ল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রচুর আয় করছেন। তাদের জীবনের বাঁক বদল সম্ভব হয়েছে। অনেকেই আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করছেন। এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কাজের ধারায় সৃষ্টি হয়েছে ‘আউটসোর্সিং’ ব্যবস্থা। ঘরে বসেই উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ খুঁজে পাওয়া এবং সেটি সম্পন্ন করে আর্থিক উপার্জন সম্ভব। উন্নয়নশীল বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে সেই সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ। যার চেয়ারম্যান ও কো ফাউন্ডার হচ্ছেন প্রকৌশলী আজিজ আহমদ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাজের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে  সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজন করেছিল ‘হাজারো নারীর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠান। কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আজিজ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, অধ্যাপক রওশন আরা মান্নান এমপি, শিরীন আহমেদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের অ্যাম্বাসেডর উইনি এস্ট্রাপ পেটারসন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এটিএম আব্দুল ওহাব, ন্যাশনাল স্কীলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও পিকেএসএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল করিম, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, কোডার্সট্রাস্ট-এর সম্মানিত উপদেষ্টা ও এনএসডিএ’র সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব মো: ফারুক হোসেন, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান, কোডার্সট্রাস্ট-এর বোর্ড অব ট্রাস্টি এবং গ্লোবাল সিইও সাঈদ মালিক, কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউল গণি ওসমানি।

ডা. দীপু মনি তাঁর বক্তব্যে কোডার্সট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি, একই সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন করছি- যা এ জাতির জন্যে একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। তিনি বলেন, এই যে দু’বছর ধরে একটি বৈশ্বিক মহামারি চলছে- সেই মহামারির সময়েও আমাদের উদযাপন উন্নয়ন কোনোটাই থেমে নেই। আজকের অনুষ্ঠান তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আনন্দচিত্তে বলেন, আমার সামনে বেশ কয়েকশ’ নারী আছেন এবং এই অতিমারির মধ্যেও তারা তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং হয়ে উঠেছেন তথ্যপ্রযুক্তি যুগে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যে দক্ষ মানবশক্তি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করি ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে নিহত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদকে। আরও স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাসহ একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লক্ষাধিক ধর্ষিতা, নির্যাতিতা নারীকে এবং ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মাহুতি দেয়া সকল শহীদকে।

ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে হাঁটতে শুরু করেছিল ঠিক তখনই তাঁকে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের দোসরেরা নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। আজ তাঁর দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অব্যাহত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হয়েছে বলেই এই অতিমারির মধ্যেও আপনারা যেমন আপনাদের প্রশিক্ষণ চালিয়েছেন, আমরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালু রাখতে পেরেছি, বন্ধ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, প্রশাসন চালু থেকেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সব চলেছে। সে কারণেই পৃথিবীর তাবৎ বড়ো বড়ো দেশ, অনেক শক্তিশালী দেশ, অনেক ধনী দেশের প্রবৃদ্ধিও যেখানে ঋণাত্মক গতিতে চলছে- সেই জায়গায় আমাদের প্রবৃদ্ধি খুব ভালোভাবে চলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এই পরিচিতি লাভের জন্যে এ জাতি দুজন মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ; একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বর্তমান বিশ্বে আজ যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসছে তার সাথে তাল মিলিয়ে, তার সফল অংশীদার হওয়ার জন্যে আমরাও পথ চলতে শুরু করেছি। এ জন্যে আমাদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এখন যে অবস্থায় আছি ঠিক সে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে আমরা সেই চতুর্থ বিপ্লবের সফল অংশীদার হতে পারবো না।

ডা. দীপু মনি কোডার্সট্রাস্ট-এর প্রশংসা করে বলেন, আপনারা যে কাজটি করছেন সেটি প্রস্তুতির একটি বড় অংশ। এজন্যে তিনি কোডার্সট্রাস্টকে আবারও ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, এই পথ চলার কাজটাও তিনি শুরু করেছিলেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিকে খুব মনোযোগী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বার বার উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষাই হচ্ছে উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, দেশ গড়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এজন্যে  তিনি কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন করেছিলেন- যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপরে অনেক জোর দেয়া হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন বলেই ১৯৭৩ সালেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করেছিল। তিনি আরও বলেন, আশার কথা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সেই উন্নয়ন ধারাকে বেগবান করতে সক্ষম হয়েছে এবং তিনি যে এই দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেছিলেন তা আজ জননেত্রী  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন ঘটছে। তিনি কোডার্সট্রাস্ট-এর কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, নারীদের শিক্ষার উপর বিনিয়োগ নিরাপদ বিনিয়োগ। তিনি জানান, একজন নারীর প্রশিক্ষণের পেছনে ১ ডলার ব্যয় করা হলে তা থেকে ৯ ডলার রিটার্ন পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা ধৈর্যশীল এবং যে  কোনো কাজের ব্যাপারে আন্তরিক।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোডার্সট্রাস্ট যেভাবে নারীদের আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলছে; এর ফলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে থাকা দেশ নয়, এটি এখন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব আতাউল গনি ওসমানি বলেন,  কোডার্সট্রাস্ট-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, কোডার্সট্রাস্ট তার জন্মলগ্ন থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আতাউল গনি ওসমানি আরো বলেন, এই ট্রাস্ট বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক এই নারী জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি ও পর্যবেক্ষণ থেকেই নারীদের আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে কোডার্সট্রাস্ট এবং ইতোমধ্যে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা এসেছে। তিনি বলেন, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ধৈর্যশীল ও মনোযোগী বলেই এই সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৭২৫ জনই ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেস থেকে কাজ আদায় করে নিতে পেরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এটি কোডার্সট্রাস্টের যথাযথ প্রশিক্ষণের ফলেই সম্ভব হয়েছে। এটি হচ্ছে কোডার্সট্রাস্টের ওয়ান অব দ্য বেস্ট অ্যাচিভমেন্ট। কোডার্সট্রাস্ট-এর উপদেষ্টা, ন্যাশনাল স্কীল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব মো: ফারুক হোসেন বলেন, কোডার্সট্রাস্ট গ্লোবালি বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের জন্যে অনন্য আশীর্বাদ। এই প্রতিষ্ঠান মেয়েদের দক্ষতার উন্নয়ন করছে, তাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে; এটি নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বিশাল সম্ভাবনা। মেয়েদের মধ্যে এই যে ইনকাম জেনারেটিং স্পীড তৈরি হচ্ছে এটি একটি বড় ড্রাইভ।

ট্রাস্টের উপদেষ্টা ও লেখক ব্যক্তিত্ব ফারুক হোসেন আরও বলেন, জাতিকে দক্ষ করে গড়ে  তোলার উদ্দেশ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এটি একটি অবজেক্টিভ, এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে কোডার্সট্রাস্ট। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ, নারী সমাজ আইসিটি স্কিলের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, দক্ষতা হলো এমন একটি অকুপেশন যে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, ক্যাপাবিলিটি, ক্যাপাসিটি থাকবে এবং সেটি ব্যবহার করে সে স্পেসিফিক অকুপেশন দ্বারা ইন্ডাস্ট্রির প্রোডাক্টিভিটি এনহেন্স করবে। এটাই হচ্ছে মূলত দক্ষতা। কোডার্সট্রাস্ট এই কাজটিই অত্যন্ত যত্নের সাথে করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আইসিটি খাতে যতো বেশি দক্ষ জনবল তৈরি হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ততো ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, আমরা ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনের দিকে যাচ্ছি এবং আমাদের তৈরি করা প্রয়োজন- কোভিড পরবর্তী যে প্রস্তুতি দরকার এবং আইসিটি স্কিলের জন্যে যে গুরুত্ব দেয়া দরকার কোডার্সট্রাস্ট তা করছে বলেই গ্লোবালি এবং বাংলাদেশ তার বেনিফিট পাচ্ছে। তিনি তাদের এই কার্যক্রম ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসার কথা জানান এবং বলেন, এটিকে একটি অকুপেশনাল স্টাইলে সার্টিফাইড পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোডার্সট্রাস্ট এবং এনএসডিএ একে অন্যের পরিপূরক হয়ে একটি পর্যায়ে কাজ করবে এবং এই সফলতা চলে আসবে বাংলাদেশের একাউন্টে।

জনাব ফারুক হোসেন আরও বলেন, স্কিলের জন্যে কোনো বয়স লাগে না, স্কিলের জন্য কোনো এডুকেশন লাগে না। যে কোনো লেভেল থেকে, যে কোনো বয়স থেকে মানুষ দক্ষ হতে পারে। তিনি তাঁর বক্তৃতায় এনএসডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান দুলাল কৃষ্ণ সাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিশেষ করে ফ্রি ল্যান্সারদের আইডেন্টিটি দেয়ার ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, আইসিটি মিনিস্ট্রি ও এনএসডিএ ইতোমধ্যেই কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে করে এসব প্রতিষ্ঠান যে কোর্সগুলো করছে তা পর্যায়ক্রমে কোয়ালেফিকেশনের ফ্রেম ওয়ার্কের আওতায় আসবে। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা সরকারি সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হবেন এবং রাষ্ট্রও তাদের কাছ থেকে যথাযথ কাজ পাবে। তিনি আরও বলেন, আউট সোর্সিংয়ের এই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্যে কোডার্সট্রাস্ট অনন্য ভূমিকা রাখছে যা প্রশংসার দাবি রাখে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ-এর কো ফাউন্ডার এবং চেয়ারম্যান আজিজ আহমদ বলেন, উন্নয়ন অভিযাত্রায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিকল্প নেই। একটি রাষ্ট্রের উন্নতির জন্যে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সকল স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। সবার অংশগ্রহণে সরকার ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠা এখন আর অবাস্তব নয়। নারীদের ক্ষমতায়নে কোডার্সট্রাস্ট তাদের কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

আজিজ আহমদ বলেন, একটি জাতির গড়ে ওঠার জন্য দরকার দৃঢ় মনোবল- যা বাঙালি জাতির মধ্যে রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার লড়াকু তরুণ যুবকসহ কৃষক-শ্রমিক-জনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি বিজয় অর্জন করে। অকুতোভয় বীর বাঙালির রক্তের উত্তরাধিকারী আমরা এখন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য লড়াই করছি। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে কোডার্সট্রাস্ট। জাতির উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি তার মধ্যে রয়েছে দেশের তরুণ ও অনগ্রসর নারী সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও জ্ঞানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

বিশিষ্ট গবেষক ও প্রকৌশলী আজিজ আহমদ বলেন, কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ৫০ হাজারের অধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্র্র্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রশিক্ষিতদের মধ্যে অনেকে ফ্রি-ল্যান্সিং করছেন। এ কাজ করার মধ্য দিয়ে তারা স্বকর্মসংস্থান ও আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। তাদের অনেকেই আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। এ কাজের সুবাদে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশ। ঘরে বসে নারী ও তরুণ সমাজ আউটসোর্সিং পেশায় যুক্ত হবার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছেন। কোডার্সট্রাস্ট দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক নব দিগন্তের সন্ধান দিয়েছে যার মাধ্যমে একটা সময় তারা স্বাধীন বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button