অর্থনীতিপ্রচ্ছদ প্রতিবেদনপ্রতিবেদনবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ফ্রিল্যান্সারদের সনদায়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা বড়ো ভিশন, দুলাল কৃষ্ণ সাহা

দুলাল কৃষ্ণ সাহা, নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব ন্যাশনাল স্কীলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএ)

ন্যাশনাল স্কীল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একই সাথে মুজিবশতবর্ষের এই মাসে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যাঁর জন্ম না হলে এ দেশের জন্ম হতো না। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নৃশংস, ঘৃণ্যতম হত্যাকা-ের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণকারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যদের। গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ শহীদ, দু’লক্ষ নির্যাতিতা মা-বোন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। আমি সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আমার ভালো লাগছে যে কোডার্সট্রাস্ট ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে লম্বা সময় ধরে কাজ করছে। আমি এনএসডিএ-তে ১৪ মাস সময় ধরে কাজ করছি। আমার মনে হয়, আরও আগে এলে হয়তো আরেকটি প্রোগ্রামে কাজ করতে পারতাম। ফ্রিল্যান্সারদেরকে সনদায়ন করা, তাদেরকে আত্মমর্যাদা দান করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা বড়ো ভিশন। আমি জয়েন করার ১৫ দিনের মধ্যেই আমাকে বলা হলো যে, তুমি ফ্রিল্যান্সারদের সনদায়ন করার জন্য একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করো। আমরা গাইড লাইন তৈরি করলাম, প্রাথমিক কাজ শেষ হলো, এখন অলরেডি আমরা ফ্রিল্যান্সারদের সনদায়ন শুরু করেছি। এখন আমি যদি কোথাও গিয়ে বলি, এনএসডিএ তখন লোকে প্রথমে তাকিয়ে থাকে তারপর জিজ্ঞেস করে যে এটা কি? তো যদি বলি ন্যাশনাল স্কীল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। তখন জিজ্ঞেস করে এটার কাজ কি? কাজ না বলা পর্যন্ত বোঝে না। এই যে একটা ডিপার্টমেন্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় তৈরি হয়েছে এটি কেন প্রয়োজন? আপনারা দেখবেন আমাদের প্রবৃদ্ধি কিন্তু বেড়ে চলেছিল। প্রায় ১০ বছর ৬.৮, পরবর্তী ৫ বছর ৭.৪, পরবর্তী ৫ বছর ৮.১৫, কোভিডের সময় ২০২০- এ হয়েছে ৫.২৫ এবং ২০২১- এ ৫.৪৬। পৃথিবীর অনেক দেশ পড়ে গেছে, আমরা পড়িনি।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঢোকার সাথে সাথে কিছু লোক বেকার হয়ে যাবে। সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে, ৩৯টি হাইটেক পার্ক করছে। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রীন ইকোনমিতে ১১ লাখ দক্ষ লোকের প্রয়োজন হবে। ২০৩০-এর মধ্যে হেলথ সেক্টরে ৫-৭ লাখ লোকের প্রয়োজন হবে। কোথায় থেকে আনবে এতো লোক? আমার স্ট্রেন্থ আছে। আমরা ডেমোগ্রাফিক উইন্ডোজ অব অপরচুনিটি ভোগ করছি। একটা জাতি সারাজীবন একবার ভোগ করে। বাংলাদেশের লাইফ স্পেন্ড ৫৫ বছর। শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সাল থেকে ২০৩৩ সালে শেষ হয়ে যাবে। ২০৩৩ এর পরে বয়স্ক লোক বাড়বে। যখন বয়স্ক লোকের সংখ্যা ৭% হয়ে যাবে তখন এটা হয়ে যাবে এজিং সোসাইটি। ১৪% তখন হবে এইচটি সোসাইটি। তাহলে আমাদের দ্রুত এগোতে হবে। আমাদের প্রতি বছরের শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে দুই মিলিয়ন ইয়ুথ। তাদেরকে দক্ষ করে তুলতে পারলে আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের কথা বলেছিল তখন অনেকে হাসাহাসি করেছিল। বাংলাদেশ আবার ডিজিটাল! ২০২০ সালে কোভিড এসে সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো যে- বাংলাদেশ ডিজিটাল। তার মানে ভিশন ২০২১ এখন বাস্তব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন ভিশন ২০৪১ উন্নত বাংলাদেশের। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার একজন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন- বাংলাদেশের পার-ক্যাপিটা ইনকাম ৯০০ ডলার হতে ১২৫ বছর লাগবে, এখন আমরা ৫০ বছরে ২৫৫৪ ডলারে। যেতে হবে ১২৫০০ ইউএস ডলারে। অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। শক্তি কি? ইয়ং জেনারেশন। কি করতে হবে? কাঁচামাল আছে আমার। তাকে দক্ষ করে তুলতে পারলে ফিনিশড প্রোডাক্ট দিতে পারলে তারা শেল্টারিংয়ে যাবে। ঐ প্রজন্মের কারিগর আমরা না, আপনারা। দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবেন আপনারা।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button