‘আক্তার সুপার মার্কেট’
শুধু মেধা থাকলেই হবে না, মেধাকে কাজে লাগাতে চাই যথাযথ পরিকল্পনা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। এ সবের সমন্বয়ে সাফল্য নিশ্চিত। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চন্দনাইশের কৃতী সন্তান আলোকিত উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের চারিত্রিক দৃঢ়তায় এ গুণগুলো বিদ্যমান। আর এ সুবাদেই তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক ভূ-খ- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতিমান। তিনি সেখানে গড়ে তুলেছেন সুপার মার্কেটের সা¤্রাজ্য ‘আক্তার সুপার মার্কেট’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭টি স্টেটে এখন ১৫টি আলোঝলমলে ‘আক্তার সুপার মার্কেট’ প্রতিটিই ‘বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধিত্ব করছে।

প্রায় দুই যুগ আগে মোহাম্মদ আক্তার হোসেন দুবাই যান। নানা চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে তিনি আজ একজন সফল উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের Ras a’l Khimaতে বসবাস করেন। ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ আক্তার হোসেন ছোটবেলা থেকেই ছিলেন কর্মতৎপর ও বুদ্ধিদীপ্ত। তিনি চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া এনজি হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৯৪ সালে যৌবনের টগবগে সময়ে তিনি পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে জীবন সংগ্রামে ব্রতী হন। সে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনে তার বিচরণ ছিল সরব। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাস জীবনে নানা ব্যবসার পর তিনি চিন্তা করলেন এমন একটি ব্যবসার কথা যেখানে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। ২০১৯ সালে আক্তার গ্রুপের নতুন ব্যবসা হিসেবে দুবাইতে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘আক্তার সুপার মার্কেট’। বাংলাদেশের তরতাজা শাকসবজি, তাজা মাছ, মাংস এবং তৈরি পোশাকসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যে সাজিয়ে নিলেন এই মার্কেট। যেন এক মিনি বাংলাদেশ এই মার্কেট। তার এই মার্কেট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের তখনকার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফরসহ দেশ-বিদেশের অনেক গণ্যমান্য অতিথি। এই সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে উদ্যমী উদ্যোক্তা এই গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আক্তার হোসেন সিআইপি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকলেও বাংলাদেশের তরতাজা শাক-সবজির কথা, সুস্বাদু মাছের কথা ভুলতে পারি না। আমার মতো অন্য বাংলাদেশিদেরও ইচ্ছে হয় টাটকা সবজির স্বাদ পেতে। ইচ্ছে হয় এক জায়গা থেকেই দেশের পণ্য ক্রয় করতে। সেই ইচ্ছে থেকেই আমার এই উদ্যোগ।’ তার সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে। এই মার্কেটের সাফল্যে তিনি বর্তমানে ৭টি স্টেটে ১৫টি আক্তার সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠা করেছেন- যেখানে প্রতিদিন ২৫/৩০ হাজার গ্রাহক কেনাকাটা করছেন। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিরাই নন, বিদেশি ক্রেতারাও এসব মার্কেটে কেনাকাটা করছেন। এর মূল কারণ, স্বাস্থ্যসম্মত চমৎকার পরিবেশে এক মার্কেটেই অনেক ধরনের পণ্যের সমাহার, তরতাজা টাটকা সবজি, মাছ, মাংস; পাশাপাশি পাওয়া যায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। এসব মার্কেটে প্রশিক্ষিত কর্মীদের ব্যবহারও বেশ সপ্রতিভ। বাংলাদেশি সেলসম্যানরাও এধরনের মার্কেটে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করতে পারে তার উদাহরণ আক্তার সুপার মার্কেট। এসব মার্কেট অনেক বড় জায়গা যেখানে খুব ফুরফুরে মেজাজে পণ্য ক্রয় করা যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই মার্কেট পেয়ে খুবই খুশি। তাদের মনে হয় দেশেই উন্নত পরিবেশে শাকসবজি মাছ ক্রয় করছেন। এখানে মাঝে মাঝে মূল্য ছাড়ও দেয়া হয়। অনেকটা বাংলাদেশিদের মিলন মেলা এই আক্তার সুপার মার্কেট। উন্নতমান পণ্যের পাশাপাশি আন্তরিক সেবায় গ্রাহকরা মুগ্ধ।
বর্তমানে এই সুপার মার্কেটগুলোতে ৪০০ এর মতো কর্মী কাজ করছেন। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারও কিছু কর্মী রয়েছে। আক্তার হোসেন মনে করেন, এই মার্কেটের সংখ্যা যত বিস্তৃত করবেন এতে অধিক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।
একজন পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এই ‘আক্তার সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠা করে শুধু যে নিজে সাফল্যের মুখ দেখছেন তাই নয়- তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বল করছে। বিশ্বের অনেক দেশে এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনেক মানুষই বাংলাদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখতো- আজ তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে পারছে; শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি।৩
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


