
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কোডার্সট্রাস্ট আয়োজিত হাজারো নারীর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোডার্সট্রাস্ট-এর নাম আমি আগেও শুনেছি আজিজ ভাইয়ের কাছে। তবে এত বড়ো পরিসরে ট্রেনিং দিচ্ছে এটা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত, অনুপ্রাণিত এবং গর্বিত। যারা ইন্টারনেট আবিষ্কার করেছে এবং পুরো ইন্টারনেটের বিপ্লব ঘটানোর জন্য বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়েছে রিচার্ড ব্রানসনসহ আরও অনেক বড়ো বড়ো ব্যক্তিত্ব যাদের সাথে একবার সাক্ষাৎ করার জন্য বিশ্বের তরুণরা উদ্গ্রীব হয়ে থাকে এরকম মানুষজন আজিজ ভাইয়ের সাথে বসে এটা তৈরি করেছেন। সাবেক শিক্ষা সচিব জনাব এনআই খানসহ অনেকেই বলেছেন- কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশে আসুক, বাংলাদেশি হোক। আমি যতদূর শুনেছি, কোডার্সট্রাস্ট এখন বাংলাদেশে লিমিটেড কোম্পানি। ইতোমধ্যেই কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশি হয়ে গেছে। ফলে এটা কিন্তু বাংলাদেশের একটা কোম্পানি। তার প্রতিষ্ঠাতা আমাদের বাংলাদেশের গর্ব। আমি অনেক আনন্দিত ও গর্বিত যে কোডার্সট্রাস্ট ডেনমার্কের মাটিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর সবচেয়ে বড়ো অপারেশন করছে বাংলাদেশে এবং আমাদের তরুণদের যে সবচেয়ে বড়ো প্রয়োজন যে দক্ষ জনসম্পদ হওয়ার জন্য একটা প্রপার ট্রেনিং। এই ট্রেনিংটা আমরা সরকার থেকেও দিয়ে থাকি। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে মিশন ও ভিশন সেটা পূরণের জন্য আমরা মনে করি সরকার এবং বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে একসাথে কাজ করলেই আমাদের সেই ভিশনটা পূরণ করা সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের যে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন সে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার জন্য এবং ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে তোলার জন্য আমি মনে করি, ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটিটাকে আরও বড়ো করতে পারলেই আমাদের লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারব। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের টার্গেট ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার আইসিটি সেক্টর থেকে রপ্তানি এবং ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই তারুণ্যনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোডার্সট্রাস্টের এই উদ্যোগ সাফল্যম-িত হবে এবং আগামী দিনে আমরা, সরকার এবং কোডার্সট্রাস্ট একসাথে মিলে কাজ করে এদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটা বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারব এটা আমি বিশ্বাস করি।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সেটা হচ্ছে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা, স্বনির্ভর করা। কোডার্সট্রাস্টের এই উদ্যোগটি যে হাজারো নারীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেয়া- এটার মধ্য দিয়ে নারীদেরকে আরও বেশি সহযোগিতা এভাবে হবে যে, তাদেরকে কোনো অফিসে যেতে হবে না। তাদের অফিসের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই ফলে তাদের একটা ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকছে, নিরাপদ জায়গা থেকে কাজ করার অধিকার থাকছে। তারা যে কোনো ডিভাইস ব্যবহার করে বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে বসে একটা উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ পেলেই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। তাই এই মুহূর্তে আমি মনে করি নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর মর্যাদা, সম্মান এবং তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর করতে হলে ফ্রিল্যান্সিংকে এ দেশের নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য যোগ্য একটি জায়গা। আইসিটি ডিভিশনেও আমরা সকল প্রশিক্ষণে ৩০% উইমেন রিজার্ভ কোটা রেখেছি যেন লার্নিং-আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, হাইটেক পার্ক, স্টার্টআপ এবং সি পাওয়ার যতগুলো প্রজেক্ট আছে নারী এবং পুরুষদের জন্য সবক’টি প্রজেক্টে প্রশিক্ষণের জন্য ৩০% নারীদের কোটা রেখেছি। এক্ষেত্রে আমি বলবো যে, সম্পূর্ণভাবে কোডার্সট্রাস্ট ১০০০ নারীকে যে ট্রেনিং দিচ্ছে এই হাজারো ট্রেইনিকে স্কিলআপ করার জন্য ২৮টা হাইটেক পার্কে ট্রেনিং করার জায়গাটা আমরা দিতে পারি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করে কোডার্সট্রাস্টের নারীদের জন্য যে ফিল্যান্সিং ট্র্রেনিং সেটাতে হাজার থেকে লক্ষ নারীকে যেন আমরা ট্রেনিং দিয়ে ফ্যিল্যান্সার বানাতে পারি। তারা যেন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করতে পারে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে, আমাদের আইসিটি ডিভিশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে ১ লক্ষ ৭০ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি স্টুডেন্ট রয়েছে। এই সাড়ে চার কোটি স্টুডেন্টকে কিন্তু ফিউচার ডিজিটাল রেডি করার জন্য আমরা ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত আইসিটি সাবজেক্টটিকে ম্যান্ডেটরি করেছি। এবং তাদেরকে হাতে-কলমে টেকনোলজি শেখানোর জন্য, তাদের কোডিং, প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য আমরা প্রায় ৯ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছি এবং আগামী ৩ বছরে প্রায় ২০ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপিত হবে। যেখানে কয়েক কোটি ছাত্রছাত্রী একটা বেসিক আইটি ট্রেনিং নিয়ে বড়ো হবে। এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর তারা যেন তাদের স্কিলটাকে ইনহ্যান্স করতে পারে এবং নতুন স্কীল তৈরি হতে পারে সেজন্য আমরা ৬৪টি জেলায় ৬৪টি শেখ কামাল আইটি ইনকিউবিশন ট্রেনিং সেন্টার করছি। তাদের এই ইনকিউবিশনের পরে যদি কেউ স্টার্টআপ হতে চায় তারা কেউ এন্ট্রাপ্রেনিওর হতে চায় তাদের জন্য আমরা ইনোভেশন ডিজাইন এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ একাডেমির আওতায় স্টার্টআপ বাংলাদেশ কোম্পানি আমরা ওখান থেকে তাদের সিট ফান্ড, তাদের গ্রো স্টেজে বিভিন্ন ধরনের ফাইন্যান্স করতে পারছি। এবং তাদের যে কাজের ক্ষেত্র অর্থাৎ সেটা সফটওয়্যার হোক, হার্ডওয়্যার হোক বা সার্ভিস সেন্টার হোক সেটার জন্য ২৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছি। ফলে পুরো একটা আইসিটি ইকো সিস্টেম আমরা বাংলাদেশে তৈরি করছি।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে আমরা আশাবাদী যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং সেখানে আমাদের তরুণরা শ্রমনির্ভর অর্থনীতিটাকে মেধানির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত করবে।


