প্রতিবেদন

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিন জন

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

অর্থনীতিতে নোবেল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছর এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ডেভিড কার্ড, জোশুয়া ডি অ্যাংরিস্ট এবং গুইদো ডব্লিউ ইমবেন্স। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশ সময় ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে নোবেল কমিটি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন ডেভিড কার্ড এবং বাকি অর্ধেক পাবেন অন্য দুই অর্থনীতিবিদ।
শ্রম অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ডেভিড কার্ড এবং কারণগত সম্পর্ক বিশ্লেষণে পদ্ধতিগত অবদানের জন্য বাকি দুই অর্থনীতিবিদ নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
গত বছর এ পুরস্কার পান দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন পল আর মিলগ্রোম এবং রবার্ট বি উইলসন। নিলাম তত্ত্বের উন্নতি এবং নতুন নিলাম পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তারা এ সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন।
এর মধ্য দিয়ে এ বছর ছয় ক্ষেত্র- চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, শান্তি, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলো।
১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে গোড়াপত্তন ঘটলেও এ তালিকায় অর্থনীতি যুক্ত হয় ১৯৬৮ সালে। অর্থনীতিতে নোবেল দেয়া হচ্ছে ১৯৬৯ সাল থেকে।
১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে যে বিপুল অর্থ দান করে তা দিয়ে অর্থনীতিতে নোবেল প্রদান করা হবে বলে ঠিক করা হয়।
আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এই পুরস্কারের পুরো নাম রাখা হয় ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’।
পদার্থ, রসায়ন ও অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি থেকে সাহিত্য এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। তাপমাত্রা ও স্পর্শের রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ডেভিড জুলিয়াস এবং আর্ডেম প্যাটাপৌসিয়ান।
অপরদিকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন। এরা হলেন জাপানি আবহাওয়াবিদ স্যুকুরো মানাবে, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ক্লাউস হাসেলমান এবং ইতালিয়ান পদার্থবিদ জর্জিও পারিসি।
চলতি বছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন জার্মানির বেঞ্জামিন লিস্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ম্যাকমিলান। ‘অ্যাসাইমেট্রিক অর্গানোক্যাটালাইসিস’ নামে অণু তৈরির নতুন এক কৌশল আবিষ্কার করে এ সম্মাননা জিতে নিয়েছেন তারা।
এবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আব্দুলরাজাক গুর্নাহ। ‘প্যারাডাইস’ নামে তার চতুর্থ উপন্যাসের জন্য তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপ জাঞ্জিবারে ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তানজানিয়ায় বেড়ে উঠলেও ১৯৬৮ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে যান এই সাহিত্যিক। অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ওয়াসাফিরি নামের একটি জার্নালেও সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
গত বছর সাহিত্যের নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কবি লুইস গ্লিক, যার দ্ব্যর্থহীন কাব্যভাষা নিরাভরণ ও সৌন্দর্যময় সুস্পষ্ট কাব্যিক ঢং স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে সর্বজনীন করে তোলে বলে জানায় নোবেল কমিটি।
সাহিত্যে এখন পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ১১৮ জন; তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ১৬। নোবেল কমিটির সদস্যদের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনার জেরে ২০১৮ সালে সাহিত্যের পুরস্কার স্থগিত করেছিল সুইডিশ একাডেমি।


শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক

২০২১ সালে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক। তারা হলেন- ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতোভ। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রচেষ্টায় কাজ করার জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল কমিটি মনে করে যে, গণতন্ত্র ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পূর্ব শর্ত হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা।
২০২০ সালে শান্তিতে নোবেল পায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডবি¬উএফপি)। ক্ষুধা নিরসনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানায়, যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধার ব্যবহার রোধে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে সংস্থাটি।
করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মতো চলতি বছরও সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিস অ্যাকাডেমি ছোট আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান স¤প্রচার করেছে নোবেল ফাউন্ডেশন। বিজয়ীদের প্রাপ্ত পদক ও সনদ পৌঁছে যাবে তারা যেসব দেশের নাগরিক, সেসব দেশের কূটনীতিকদের কাছে। বিজয়ীরা দেশে তাদের কাছ থেকে পদক ও সনদ সংগ্রহ করবেন।

অর্থকণ্ঠ ডেস্ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button