সাক্ষাৎকার

আমাদের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠীরই তা নেই

তাসনিম মাহফুজ সাংবাদিক অঙ্গনের উজ্জ্বল তারকা

 

তারুণ্য স্বপ্নের অধ্যবসায়ের তেমনি সৃজনশীলতার। এই সৃজনশীলতার পেছনে যে বিষয়টি বেশি কাজ করে তা হচ্ছে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এমনই একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব তাসনিম মাহফুজ যিনি তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছেন ক্লান্তিহীনভাবে। পেশায় শুধু সাংবাদিক নন, পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি স্টেজ শো করেন এই সুদর্শনা, স্মার্ট এবং লাস্যময়ী মিডিয়া তারকা। ইতোমধ্যে তার পারফরমেন্স যুক্তরাষ্ট্রে সাড়া ফেলে দিয়েছে

 

একজন সাংবাদিক তাসনিম মাহফুজ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত হতে সক্ষম হয়েছেন। নারী সাংবাদিকতায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্যে বাংলাদেশি আমেরিকান তাসনিম মাহফুজ অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস্টিজিয়াস অ্যাওয়ার্ড ‘গ্রাসিজ অ্যাওয়ার্ড’ (Gracies Award). এই প্রাপ্তির পর তাসনিম মাহফুজ বলেছিলেন, মূলধারার মিডিয়ায় নিজেকে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গৌরব বোধ করছি।
আত্মপ্রত্যয়ী, স্বপ্নদর্শী এবং কঠোর পরিশ্রমী তাসনিম মাহফুজ বলতে গেলে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশি; পিতা-মাতা দু’জনেই দীর্ঘসময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন, তার জন্মও প্রবাসেই। কিন্তু পিতা-মাতার শেকড় সত্তার বাংলাদেশকে বুকে আগলে রেখেছেন। নিজেকে মনে-প্রাণে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ভাবতে বেশি ভালোবাসেন। তার মতে, বিশ্ব নাগরিকের দেশ বাংলাদেশের পলি¯œাত ভ‚মি, নদীর কল্লোল আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের হাতছানি। তিনি মনে করেন, এ প্রজন্মের যারা বাংলাদেশকে খুব বেশি জানার বা দেখার সুযোগ পাননি তাদেরকে বাংলাদেশের মূল সংস্কৃতি সম্পর্কে, দেশের মানুষ, উৎপাদন কর্ম এবং ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তাসনিম মাহফুজ বলেন, আমাদের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠীরই তা নেই। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে একুশে ফেব্রæয়ারি আছে, স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আছে। আছে নদীর কাব্যময় কল্লোলিত ধারা, আছে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের মনকাড়া রূপ।


এই গুণী সাংবাদিক শুধু পেশার ক্ষেত্রে সাহসী ও মেধাবীই নন, দেখতেও অপূর্ব সুন্দর। কণ্ঠেও রয়েছে যাদুকরী সুরেলা বৈভব। স্বাভাবিকভাবেই তিনি যখন যেখানে যাচ্ছেনÑ দেখছেন এবং জয় করছেন অবলীলায়। ২০১২ সালে ইস্তাম্বুল থেকে তার টিভি সাংবাদিকতার শুরু। তার প্রথম টিভি রিপোর্ট ছিলো তুরস্কের বিখ্যাত মসজিদ ‘বøু মস্ক’ এর উপর একটি প্রতিবেদন। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি ইব্রæ টেলিভিশনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিউজ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। এখানে যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যেই হারিকেন স্যান্ডির আঘাতে ছিন্ন-ভিন্ন নিউ জার্সির ওপর রিপোর্ট করে তিনি প্রশংসিত হন। ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি এখানে কাজ করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন একজন রিপোর্টারের জন্যে ভালো এবং সাহসী সংবাদ পরিবেশনের বিকল্প নেই। কানেক্টিকাটে স্যান্ডিহক এলিমেন্টারি স্কুলে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনাবলীর স্পট রিপোর্টিংয়ের জন্যে বেশ প্রশংসিত হন। এই রিপোর্ট তাকে রাতারাতি বিখ্যাত করে দেয়। আমেরিকার মূলধারার উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও তাকে জানার সুযোগ পান। মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তার নাম। সাংবাদিক হিসেবে তার বৈশিষ্ট্য মার্কিনীদেরও দৃষ্টি কাড়ে। আমেরিকায় সাংবাদিকতায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তিনি ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। আমেরিকায় নারী সাংবাদিকতায় এটি হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় অ্যাওয়ার্ড, তাসমিন মাহফুজ-ই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যিনি এই মর্যাদা পূর্ণ অ্যাওয়ার্ড লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।


তাসনিম মাহফুজ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য স্বীকার করেন না। তার মতে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কাজটা গুরুত্বপূর্ণ; লিঙ্গ বিভেদ নয়। তিনি ফোবানা সম্মেলনে ‘ফোবানা অ্যাওয়ার্ড’ লাভের মধ্য দিয়ে নিজের পেশাজীবনকে বাংলাদেশি আমেরিকানদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই অর্জনে বাংলাদেশি আমেরিকানরা গর্বিত।
তারুণ্যের উৎকর্ষে দীপ্ত ও আনন্দিত তানসিম মাহফুজ ইতোমধ্যেই তার কর্মের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, ক্রিমিয়া সঙ্কট, সিরিয়ার উন্নয়ন নিয়ে খবর এবং ব্রেকিং নিউজ প্রদান করেছিলেন। নোবেলজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডে-বøাসিও এর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। বাংলা, ইংরেজি, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দি ও উর্দুতে পারদর্শী তাসনিম মাহফুজ।
তাসনিমের মা একজন উদ্যমী ও সাংস্কৃতিকমনা নারী। সাউথ ফ্লোরিডায় একটি টিভি চ্যানেলে তিনি একটি অনুষ্ঠান চালাতেন। মা তার মূল প্রেরণাদাত্রী। শৈশব থেকেই তিনি ফ্লোরিডায় আয়োজিত বাংলাদেশ কমিউনিটির সকল অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থেকেছেন। বর্তমানে তাসনিম এবিসি কোর উটাহ টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং সাউদার্ন-উটাহ ব্যুরো চিফ হিসেবে কাজ করছেন।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পামবিচের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মাহফুজের কন্যা তাসনিম মাহফুজ এমরা ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে আইন নিয়ে মাস্টার্স করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দু’বছরের ইন্টার্নশিপ করেছেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে।
মার্কিন মুলুকের হার্টথ্রব সাংবাদিক তাসনিম মাহফুজ ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং পেনসেলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যব্যাপী প্রচারিত ডবিøউডিভিএম (WDVM) নিউ চ্যানেলের প্রায় প্রতিটি সংবাদ বুলেটিন কভার করে থাকেন।
তাসমিন ব্যক্তিগত জীবনে একজন নিরহঙ্কারী মানুষ। তার ধ্যানজ্ঞান সবকিছুই WDVM টিভি চ্যানেলের সংবাদকে ঘিরে। তিনি মনে করেন- একজন বাংলাদেশি আমেরিকান যে কোনো বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জন করলেই তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বলতর করে।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button