নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘বিজনেস আমেরিকা’র নির্বাহী সম্পাদক এবং এ সময়ের প্রত্যয়ী, মেধাবী, কর্মনিষ্ঠ ও দক্ষ পেশাজীবী নারী ব্যক্তিত্ব মাবিয়া আফরিন। আসন্ন ‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট দুবাই-২০২১’ প্রসঙ্গে তিনি অর্থকণ্ঠকে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন।
মাবিয়া আফরিন ১৯৮৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানার এমপি ডাংগী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জনাব শাওকত আলী মাষ্টার এবং মা হোসনেআরা বেগম। মাবিয়া আফরিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে মানবসম্পদ বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাজীবী নারী হিসেবে তিনি ব্যবসা, প্রশাসন, ব্যক্তিত্ব, মানবসম্পদসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন বিষয়ে অভিজ্ঞদের একজন। ‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট দুবাই-২০২১’ অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে তিনি যা বলেন তা এখানে উপস্থাপন করা হলো।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্থকণ্ঠ প্রতিনিধি নাসরিন জাহান
অর্থকণ্ঠ : আপনি ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন-এর নির্বাহী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘Global Business Summit Dubai-2021’ এর সাথে সম্পৃক্ত; এ ধরনের উদ্যোগের সাথে জড়িত হবার পেছনে আপনাদের মূল লক্ষ্য কি?
মাবিয়া আফরিন : আপনি ঠিকই বলেছেন যে, বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন আগামী ২৫ ও ২৬ মে দুবাই সিটির ক্রাউন প্লাজা হোটেলে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘2nd Global Business Summit Dubai-2021’ আয়োজন করেছে। এছাড়া ইতিপূর্বেও বিজনেস আমেরিকা বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বিজনেস সামিট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাফল্য লাভ করে। এই সম্মেলনে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে বহির্বিশ্বের ব্যবসায়িক যোগাযোগের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দেশি এবং বিদেশি স্বনামধন্য ব্যবসায়ীদের সফল উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সবার কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। আপনারা জানেন, দুবাই হচ্ছে বিজনেস হাব, ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম রাজধানী। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এ আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাপী তাদের বিপুল সাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিন ও তার টিম নিরন্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুরু থেকেই আমরা দেশি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি অত্যন্ত সতর্কতা ও সফলতার সাথে উপস্থাপন করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অর্থকণ্ঠ : এ ধরনের সামিটে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কতটুকু প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন?

মাবিয়া আফরিন : অবশ্যই ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ধরনের সম্মেলনে যেহেতু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে এ আয়োজনে থাকবে বিভিন্ন উপস্থাপনা ও প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশি পণ্যকে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। ফলে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন এবং বাংলাদেশ আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। সামিটে বিজনেস নেটওয়ার্কিং বাড়বে।
অর্থকণ্ঠ : এতে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হবে?
মাবিয়া আফরিন : বাংলাদেশ অনেক দিক থেকে লাভবান হবে। প্রথমত, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বাড়বে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্র নয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হবেন এদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে। এতে বাংলাদেশের দ্রুত শিল্পায়ন ঘটতে থাকবে। ফলে, একদিকে যেমন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে পাশাপাশি দেশে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। বেকারত্বের হার শুধু কমবেই না, এই জনশক্তি দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারা দেশকে নিয়ে যাবে উন্নত দেশের কাতারে। জাতি হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে আরো গর্ব করার সুযোগ পাবো।
অর্থকণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সবল করার ব্যাপারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে?
মাবিয়া আফরিন : অবশ্যই তা মনে করি। কারণ, পৃথিবীর কোনো দেশই এককভাবে স্বাবলম্বী নয়। কোনো দেশের উদ্যোক্তাদের পুঁজি আছে কিন্তু শিল্পস্থাপনের সেরকম সুযোগ নেই। আবার কোনো দেশের উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা আছে, কর্মী বা লোকবল আছে; কিন্তু পুঁজি নেই। সেক্ষেত্রে পুঁজিসম্পন্ন উদ্যোক্তারা অন্যদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। বর্তমানের বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি যে কোনো উদ্যোক্তাদের জন্যে বিনিয়োগের স্বর্গ। কারণ, এখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সস্তা শ্রম এবং শিল্পসহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান। একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নেয়ার ফলে বিদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারবেন। বাংলাদেশ যে শিল্পায়িত দেশ, এখানে যে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠার সুযোগ আছে- সে সম্পর্কে তারা জানতে পারবেন এবং আগ্রহী হয়ে এ দেশে আসবেন এটা নিশ্চিত বলা যায়।
অর্থকণ্ঠ : এই সামিটে অংশ নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা কেমন সাড়া দিচ্ছেন- আপনাদের পত্রিকা এ ক্ষেত্রে কতটুকু ভূমিকা রাখছে?

মাবিয়া আফরিন : বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে আমেরিকা, জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ শতাধিক দেশের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী এতে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়েছে, তাদেরও অনেকে এতে অংশ নিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ কাজ করার পেছনে ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ম্যাগাজিনে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি টিম যেমন আমেরিকায় কাজ করছে, তেমনই বাংলাদেশেও। দিনরাত পরিশ্রম করে তারা পত্রিকাটি প্রকাশ করছেন, দেশের ইতিহাসে এ পত্রিকাই প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাংলাদেশি উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অধ্যাপকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের রত্নদের খুঁজে বের করে তাদের সাফল্য প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। বলা যায়, ‘বিজনেস আমেরিকা’ ম্যাগাজিন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এ পত্রিকার গুরুত্ব অবশ্যই স্বীকার্য।
অর্থকণ্ঠ : বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
মাবিয়া আফরিন : আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।



