আমেরিকায় আত্মপ্রত্যয়ী এবং খ্যাতিমান এক বাংলাদেশি আমেরিকান ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক জর্জিয়ার বাংলাদেশ কমিউনিটির অতি প্রিয়জন। অত্যন্ত মেধাবী এই মানুষটি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি ২০১২ থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. মানিক ছাত্র হিসেবে ছিলেন খুবই মেধাবী। তিনি ঢাকা সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে। তিনি ১৯৮১ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকে মোহাম্মদ আলী মানিকের স্বপ্ন আমেরিকায় আসার। তিনি ১৯৮৭ সালে উচ্চশিক্ষার্থে ইউএসএ আসেন। তিনি শুরুতে Texas Tech University Health Science Centre, ELPaso-তে শিশুবিষয়ক আবাসিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৯৫ সালে Atlanta’র Swimmnett Medical Centre in Swfurb এ শিশু চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। এখানে তিনি এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যবসায়ী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং স্বাধীনচেতা চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী মানিক চাকরি ত্যাগ করে ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে নিজস্ব চেম্বারে শিশু চিকিৎসা প্রদান করেন। শুরু হয় নতুন অধ্যায়ের। তিনি শিশু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে শিশু চিকিৎসক বোর্ড থেকে অনুমোদন-প্রাপ্ত।
ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ছাত্র হিসেবে যেমন একনিষ্ঠ ছিলেন তেমনি ক্রীড়াবিদ হিসেবেও ছিলেন বেশ দক্ষ। ছোটবেলা থেকেই তিনি ক্রীড়ামোদী। তিনি বাংলাদেশে ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি সেসময় ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে খেলতেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড় হয়ে খেলতেন। এই আলোকিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল সাব-কমিটির সদস্য ছিলেন।

শুধু ক্রীড়া অঙ্গনেই নন, পেশাজীবী সংগঠনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৮৫-১৯৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (BMA) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। বিএমএ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
কথায় বলে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক আমেরিকায় এসেও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৯ সালে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশিদের বড় সংগঠন FOBANA’র চিফ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। তিনি ২০০৩-২০০৪ সালে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, জর্জিয়ার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ১৯৯৬ সালে FOBANA’র চিফ অ্যাডভাইজার ছিলেন। তিনি Bangladesh Foundation of Georgia’র চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটির একান্ত আপনজন ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন বেশ ভালো আছেন। তারা নিজ দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছেন।
অর্থকণ্ঠ প্রতিবেদক


